লাভ ম্যারেজ - পর্ব ০২ | ফারিশ্তা আহমেদ | রোমান্টিক বাংলা গল্প

লাভ ম্যারেজ - পর্ব ০২ | ফারিশ্তা আহমেদ | রোমান্টিক বাংলা গল্প

28 November, 2025
1 মিনিট পড়া

লাভ ম্যারেজ

লেখক: ফারিশ্তা আহমেদ পর্ব : ০২

‘হ্যাঁ জান বলো..তোমার ডায়রিয়া কি কমেছে? নাকি আরো বেড়ে গেছে জান?’

বিষম খেল ভদ্র। কল রিসিভ হতেই এমন কথা শুনবে সে ভাবতেও পারেনি। ডায়রিয়া? কার ডায়রিয়া? ভদ্রের?ছ্যাহ! কিসব বলছে! ভালো করে দেখলো নাম্বার ভুল করেনি তো? কিন্তু গলাটাও তো চেনাই লাগছে। আবারো ওপাশ থেকে মেয়েলি কন্ঠ ভেসে আসলো,
‘কি হলো জান? কমেনি তাইনা? এখনো ওয়াশরুমে আছো?’

‘কিসব বলছেন আপনি? আর যার নাম্বার সে কোথায়?’

‘নাম্বারের মালিক তো আমিই! কল দিয়েছেন অথচ জানেন ই না কিছু.!’

‘মিস ফাজিহা? ভদ্র বলছি। ’

‘ওমা..অভদ্র যে! ইশশশ্ আমি তো বুঝতেই পারিনি এটা আপনি। আমি তো ভেবেছিলাম আমাদের পাড়ার মন্টু গুন্ডা বোধহয় আবার কল দিল জ্বালানোর জন্য।'

কথাটা বলেই শব্দ করে হেসে উঠল ফাজিহা। দাঁতে দাঁত পিষলো ভদ্র,
’তুমি ইচ্ছা করেই এসব বলেছ, ফাজিল মেয়ে একটা!’

আবারো ফাজিল? ফাজিহা কটমট করে বললো,
’আপনি ফাজিল, আপনার চোদ্দগুষ্টি ফাজিল। একটা মেয়ের অমতে বিয়ে করছেন!’

’এ্যাই একদম পরিবার তুলে কথা বলবেনা। অসভ্য মেয়ে!’

‘একশোবার বলবো, হাজারবার বলবো। অভদ্র পুরুষ!’

’একবার বিয়ে হোক দেখাবো তোমায় মজা!’

‘বিয়েটা তো হোক আগে৷ আদৌও হবে কিনা সেটা ভাবুন আপনি।’

’চ্যালেজ্ঞ দিচ্ছ?’

‘ধরে নিন সেটাই।’

’ওকে দেখা যাক কে জিতে। আমিও এর শেষ দেখে ছাড়ব, মিস ফা জি ল।’

'ওকে মিস্টার অ ভ দ্র।’

দুজনেই দুজনকে ভেঙিয়ে রেখে দিল ফোনটা। ফাজিহা রাগে ফুঁসছে। পাশ থেকে রুবাইয়া হেসে কুটিকুটি হচ্ছে। ফাজিহা রেগে তাকালো ওর দিকে। কিন্তু তাতে কিছু আসে যায়না রুবাইয়ার। সে থোড়াই না তোয়াক্কা করে! হাসতে হাসতে বলল সে,
‘তোদের কিন্তু বেশ মানাবে! একদম পারফেক্ট টম এন্ড জেরি জুটি! বিয়েটা করে নে তুই!’

‘আমি তোকে বিয়ে ভাঙার বুদ্ধি দিতে বললাম আর তুই আমাকে বিয়ে করতে বলছিস?’

রেগে কথাটা বলল ফাজিহা। রুবাইয়া এবার কিছুটা সিরিয়াস হল। বান্ধবীর পাগলামো তে সায় দিতে হবে এখন তাকেও নাহলে এই মেয়ে কি করে বসে তার কোনো ঠিক-ঠিকানা নেই। কিন্তু রুবাইয়া মনে মনে চায় বিয়েটা হোক। কারণ ভদ্রকে ফাজিহার জন্য ভালোই মনে হয়েছে ওর। তাই একটা দুষ্ট বুদ্ধি আটলো মাথায়।

‘আচ্ছা আমি তোকে একটা পারফেক্ট প্ল্যান দিচ্ছি। শিউর বিয়েটা হবেনা আর। গ্যরান্টি দিচ্ছি তোকে!!’

ফাজিহার চোখ চিকচিক করলো খুশিতে। রুবাইয়া ওকে বুঝিয়ে বলল সব। সব শুনে ফাজিহা ও রাজি হয়ে গেল। রুবাইয়া এক ফাঁকে ফাজিহার ফোন থেকে ভদ্রের নাম্বার টা নিয়ে নিল। ঠোঁটে শয়তানি হাসি! তারপর ফাজিহাকে বিদায় জানিয়ে ওদের বাসা থেকে চলে গেল রুবাইয়া।

✿ ✿ ✿

‘কিরে কি খবর তোর? শুনলাম তোর বিয়ের ডেট নাকি ফিক্সড? জগতে আমিই শুধু সিঙ্গেল মরার জন্য জন্মেছি।’

শুভকে দেখে ভদ্র ল্যাপটপ টা বন্ধ করে দিল। শুভ হলো ভদ্রের বেস্ট ফ্রেন্ড। দুজনে একই অফিসে চাকরি করে৷ ভদ্রের প্রমোশন হওয়ায় আলাদা কেবিন হয়েছে ওর। যদিও অফিসটা তার বাবার তাও ভদ্র একজন এমপ্লয়ি হিসেবে কাজ করে এখানে। ও নাকি এখনো সি ইউ হওয়ার যোগ্য হয়নি। আলাদা কেবিন হলেও কাজের ফাঁকে দুজনে ভদ্রের কেবিনে টুকটাক আড্ডা দেয়। ভদ্র দীর্ঘশ্বাস ফেলল।

‘আবার বিয়ে! যা কাহিনী হলো..’

‘কেন, কি হয়েছে আবার?’

ভদ্র একে একে খুলে বললো সব। শুভর প্রচন্ড হাসি পেল সব শুনে। সাথে অবাক ও হলো, কি জল্লাদ মেয়েরে বাবা! দুই বন্ধু মিলে ফাজিহা নিয়ে অনেক্ষণ মজা করলো। হঠাৎ করেই ভদ্রের ফোনে অচেনা এক নম্বর থেকে কল এলো। ভ্রু কুঁচকে তাকাল ভদ্র। রিসিভ করে ফোনটা কানের পাশে লাগাতেই ভেসে এলো এক অপরিচিত মেয়েলি কণ্ঠস্বর।
‘ভদ্র চৌধুরী বলছেন?’

‘ইয়েস, ভদ্র চৌধুরী স্পিকিং!’

‘আমি রুবাইয়া, রুবাইয়া ফারহানা।’

‘স্যরি, চিনলাম না.।’

‘ফাজিহার বেস্ট ফ্রেন্ড’

‘ওহ্ আচ্ছা, মিস ফাজিহা কি বিয়ে ভাঙার জন্য আমার নাম্বার দিয়েছে আপনাকে?’

‘বিয়ে ভাঙার দায়িত্ব দিয়েছে ঠিক, তবে নাম্বার টা আমিই নিয়েছি ওর অজান্তে।’

‘কারণ?’

‘আমি চাই বিয়েটা হোক! ফাজিহার জন্য আপনাকে পারফেক্ট মনে হয়েছে আমার তাই।’

‘হুম ভালো প্ল্যান! বাট কাজে আসবেনা।’

‘এইটা কোনো প্ল্যান না। আমি সত্যিই বলছি৷’

‘কিভাবে বিশ্বাস করব?’

‘করতে হবেনা বিশ্বাস! আপনি আমাকে আপনার একটা ক্লোজ ফ্রেন্ডের নাম্বার দিন। বাকি প্ল্যান তার সাথে করে নিব। আপনাকে বিয়ের আগের দিন রাতে সব আপডেট দিয়ে দিব!’

‘ফ্রেন্ডের নাম্বার কেন?’

‘আহা দিন না!’

‘না আগে আমি সব জানতে চাই।’

রুবাইয়া বাধ্য হয়ে ওর সব প্ল্যান সম্পর্কে জানালো ভদ্র কে। সব শুনে ভদ্র শুভ'র নাম্বার টা দিয়ে দিল রুবাইয়া কে। ফোন রাখতেই ভদ্রের ঠোঁটে কুটিল হাসি ফুটে উঠলো। মনে মনে আওড়ালো,
‘এবার আপনি কিভাবে বিয়েটা আটকান আমিও দেখে নিব তা!’

‘কি রে কে ফোন করলো? ভাবী নাকি?’

শুভর কথা শুনে ভদ্র সব বললো শুভ কে। শুভর ও মনে ধরলো রুবাইয়ার আইডিয়া। বন্ধুর জন্য সে এটা করতে পারবে। কিন্তু সে অবাক হলো রুবাইয়ার কথা ভেবে। যাকে বিয়ে ভাঙার দায়িত্ব দিল সেই বিয়ে দেওয়ার জন্য প্ল্যান করেছে। আনমনে বলল,

‘ইন্টারেস্টিং!’

✿ ✿ ✿

আর ঠিক দুইদিন পর ফাজিহা-ভদ্রে বিয়ে। তাই দুপক্ষের সবাই মিলে বিয়ের কেনাকাটা করতে এসেছে। ফাজিহা দের তরফ থেকে ফাজিহা, রুবাইয়া, ফাইজা আর নাজিয়া রহমান এসেছে। আর ভদ্র দের তরফ থেকে আতিফা চৌধুরী আর ভদ্র এসেছে সাথে শুভ।

ভদ্রকে দেখে ফাজিহা মুখ বাঁকালো। ভদ্রও মুখ ফিরিয়ে নিল। পরক্ষণেই আড়চোখে তাকিয়ে দেখলো ফাজিহা কে। কালো লং জামা পরে চুল গুলো একদিক দিয়ে ছেড়ে রেখেছে ফাজিহা ; মুখে কোনো প্রসাধনী নেই বিশেষ! তাতেই অনেক মিষ্টি লাগছে মেয়েটাকে। একমুহূর্তের জন্য ভদ্র দুজনের ঝগড়ার কথা ভুলে গেলো বেমালুম। দুজনেই এভাবেই একটু পর পর আড়চোখে একে অপরকে দেখে চলছিল। হঠাৎ করে চোখাচোখি হতেই ধরা পড়ে গেল দুজন। সাথে সাথেই চোখ ফিরিয়ে নিল দুজন।

শুভ আর রুবাইয়া একপাশে দাঁড়িয়ে আছে। রুবাইয়ার কেন জানি ভীষণ লজ্জা লাগছে শুভর সামনে দাঁড়িয়ে থাকতে। অথচ শুভ এক ধ্যানে তাকিয়ে আছে ওর দিকে। মাত্র চারদিন হলো দুজনের মাঝে যোগাযোগ। তাতেই একে অপরের প্রতি আকৃষ্ট হয়ে গেছে। আজকে সামন সামনি দেখার পর তো আরো।

‘আমাদের প্ল্যান মোতাবেক কাজ করা উচিত দাঁড়িয়ে না দেখে।’

নীরবতা ভেঙে কিছুটা ইতস্তত বোধ করে কথাটা বললো রুবাইয়া। ও জাস্ট নিতে পারছেনা শুভর ওই দৃষ্টি। লজ্জায় মাটির সাথে মিশে যেতে ইচ্ছে করছে। শুভ ও সহমত প্রকাশ করলো। রুবাইয়া গিয়ে ফাজিহার পাশে দাঁড়ালো। সবকিছু পছন্দ করে কিনছেন নাজিয়া রহমান আর আতিফা চৌধুরী। হঠাৎ করে রুবাইয়া একটা জামা হাতে নিয়ে ফাজিহা কে বললো,
‘দেখ ফাজু, এইটা কি সুন্দর! অনেক মানাবে তোকে।’

ভদ্র তাকিয়ে দেখল জামাটা। আসলেই সুন্দর! কিন্তু ফাজিহা নিতে নারাজ হলো; যদিও ওর নিজেরও অনেক পছন্দ হয়েছে জামাটা! ও তো জানে, বিয়েটা তো আসলে হবেইনা। তাহলে ভদ্রের এতোগুলো টাকা খরচ কেন করাবে ও? এমনিতেই অনেক টাকা খরচ হচ্ছে ভদ্রের। এসব দেখে ফাজিহার খারাপ লাগল। তাই নিতে চাইলোনা। ফাজিহা নিতে চাইছেনা দেখে ভদ্র টিপ্পনী কাটলো,

‘থাক রেখে দাও শালি সাহেবা, সবাইকে তো আর সব জিনিস মানায় না!’

সাথে সাথেই কাজ হয়ে গেল৷ ফাজিহা রেগে জামাটা হাতে নিয়ে ট্রায়াল রুমের দিকে। ভদ্র মুচকি হাসলো। মিস ফাজিল কে ও ঠিক চিনেছে! তারপর রুবাইয়া কে উদ্দেশ্য করে বললো,
‘তুমি যাও ওর সাথে!’

তখনই রুবাইয়া ফোন আসার ভান করে আরেকপাশে চলে গেল। ভদ্র ভাবলো তাহলে ফাইজাকে বলবে। কিন্তু শুভ দিলনা বলতে।
‘তোর হবু বউ তুই না গিয়ে অন্য কাউকে কেন পাঠাতে চাইছিস?’

‘আমি কি মেয়ে নাকি?’

‘তো তুই কি ভিতরে যাবি নাকি? তুই বাইরে দাঁড়িয়ে পাহারা দিবি।’

তাও ভদ্র যেতে চাইলোনা। শুভ তাও জোর করে পাঠিয়ে দিল ওকে।

ট্রায়াল রুমের সামনে এসে ভদ্র পায়চারি করছে। মিস ফাজিল বের হয়ে এখানে ভদ্রকে দেখলে নিশ্চয়ই পায়ে পা লাগিয়ে ঝগড়া করবে। কি মুশকিলে পড়লো ভদ্র!
অনেক্ষণ হয়ে যাওয়ার পরও ফাজিহা বের হচ্ছেনা দেখে চিন্তিত হলো ভদ্র। দরজায় টোকা দেওয়া মাত্র ওপাশ থেকে ফাজিহার গলা পাওয়া গেল,

‘রুবা একটু হেল্প করতো! চেইন টা কিসে আটকে গেছে দেখতো একটু।’

বলেই দরজাটা ভিতর থেকে খুলে দিলো। ভদ্র দ্বিধায় পড়ে গেল। এখন রুবাইয়াকে ডাকতে গেলে যে কেউ ডুকে পড়তে পারে। কি করবে এখন ও? অনেক ভেবে সে ঢোকার সিদ্ধান্ত নিল। ফাজিহা কিছু বলার আগেই বেরিয়ে আসবে সে। চেইন টাই তো লাগানোর ব্যপার শুধু।
ভিতরে ঢুকেই দেখলো ফাজিহা ওপাশ ফিরে আছে। ভদ্র তাকিয়ে দেখলো চেইন টা চুলের সাথে আটকে আছে। সে আলগোছে চুলগুলো ছাড়িয়ে দিতেই দৃশ্যমান হলো ফাজিহার অর্ধখোলা পিঠ। সাথে সাথেই চোখ বন্ধ করে নিলো ভদ্র। তারপর আস্তে করে লাগিয়ে দিল চেইন টা।
চেইন লাগানো শেষ হতেই ফাজিহা পিছু ফিরে ভদ্রকে দেখে চিৎকার করে উঠলো জোরে। ভদ্র তাড়াতাড়ি করে ফাজিহার মুখ চেপে ধরলো। ফাজিহা চোখে বিস্ময়ভরা। ভয়ে শুকনো ঢোক গিলল ভদ্র। এখন কি হবে ওর?

Farishta Ahmed

ফারিশ্তা আহমেদ

একগুচ্ছ এলোমেলো শব্দ-ভান্ডার গড়ার ক্ষুদ্র প্রচেষ্টা মাত্র

ফেসবুকে ফলো করুন

এই পোস্ট শেয়ার করুন

ফেসবুক টুইটার
MD SADIK

MD SADIK

Full Stack PHP Developer

আমি Bangla Love Msg এর ফাউন্ডার এবং অ্যাডমিন ও ডেভলপার। ওয়েবসাইটের UI/UX ডিজাইন এবং কোডিং নিয়ে কাজ করতে আমি ভালোবাসি। আপনাদের জন্য সেরা বাংলা স্ট্যাটাস ও মেসেজগুলো কিউরেট করাই আমার লক্ষ্য।



সম্পর্কিত পোস্ট